Angush fish

বিলুপ্তপ্রায় আঙ্গুস মাছের পোনা উৎপাদন

Read Time:4 Minute, 27 Second

এমন একটা সময় ছিল যখন দেশের বৃহত্তর সিলেট এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আঙ্গুস মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় বর্তমানে হারিয়ে যেতে বসেছে এই জনপ্রিয় ও সুস্বাদু মাছটি।

বিলুপ্তপ্রায় এই মাছটি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নীলফামারীর সৈয়দপুর উপকেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নিরলস গবেষণা করে পেয়েছেন ব্যাপক সফলতা।

মাছটি আবারো খাবার টেবিলে ফিরে আনতে কাজ করে যাচ্ছেন তারা। এরই ধারাবাহিকতায় মাছটির প্রজনন ও পোনা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষক দলে ছিলেন—উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রশীদুল হাসান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শওকত আহমদ।

মাছটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সৈয়দপুর স্বাদুপানি উপকেন্দ্র থেকে—

উত্তরবঙ্গের তিস্তা, চিকলী ও আত্রাই নদী থেকে আঙ্গুসের ১৫-২০ গ্রাম ওজনের পোনা সংগ্রহ করা হয়।

জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে মূলত এ মাছটি ধরা পড়ে।

পোনা সংগ্রহের পর সৈয়দপুর গবেষণা উপকেন্দ্রের পুকুরে প্রতিপালন করে ব্রুড মাছ তৈরি করা হয়।

এর পর প্রজনন মৌসুমে হরমোন ইনজেকশন দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে পোনা উৎপাদনে সফলতা অর্জিত হয়।

এ প্রসঙ্গে রশীদুল হাসান জানান, আঙ্গুস মাছের কৃত্রিম প্রজনন তুলনামূলকভাবে জটিল এবং নার্সারি ব্যবস্থাপনায় পোনার মৃত্যুর হার বেশি।

এ-বিষয়ে অধিকতর গবেষণা চলমান রয়েছে।

প্রজনন সফলতা সম্পর্কে একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান,

দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও বিপন্ন মাছ পুনরুদ্ধারে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর।

এ লক্ষ্যে গবেষণা জোরদার করা হয়েছে এবং ইনস্টিটিউট থেকে ইতোমধ্যে ২৩ প্রজাতির বিপন্ন ও দেশীয় ছোট মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে।

ফলে পুকুরে দেশীয় মাছের উৎপাদন গত ১২ বছরে ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৪১ হাজার মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

আঙ্গুস মাছের আকার ও পরিচিতি

উল্লেখ্য, মিঠা পানির আঙ্গুস মাছ আকারে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়। একটি স্ত্রী আঙ্গুস মাছের ডিম ধারণ ক্ষমতা আকারভেদে ২০ হতে ৫০ হাজার।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটি আঙ্গুস মাছ ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম হলেই পরিপক্ব ও প্রজননক্ষম হয়ে যায়।

এর প্রজননকাল মে থেকে আগস্ট—এই চার মাস। তবে জুন-জুলাই মাস সর্বোচ্চ প্রজননকাল।

এ ছাড়া একই বয়সের প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রী মাছ পুরুষ মাছের চেয়ে আকারে বড় হয়।

অঞ্চলভেদে আঙ্গুস মাছ—আগুন চোখা, আংরোট ও কারসা নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম : লেবেও আংরা – labeo angra।

প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করায় মাছটি এখন থেকে চাষের মাধ্যমে উৎপাদন করা যাবে।

মহাপরিচালক আরো জানান, ইনস্টিটিউটে বর্তমানে রাণী মাছ, কাকিলা, পিয়ালী, বাতাসী, কাজলী, শালবাইম, ডেলা ও বোল মাছ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডেস্ক শুভ কৃষি

Happy
Happy
0 %
Sad
Sad
0 %
Excited
Excited
0 %
Sleppy
Sleppy
0 %
Angry
Angry
0 %
Surprise
Surprise
0 %

Average Rating

5 Star
0%
4 Star
0%
3 Star
0%
2 Star
0%
1 Star
0%

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *